বে-পরোয়া বে-নজীর : এক বিপ্লবী কবির উপাখ্যান

বেপরোয়া বিপ্লবী কবি বেনজীর আহমদ। হিন্দু মহাসভার সম্মেলন উপলক্ষে মুদ্রিত প্রচারপত্র।

এক. "... এর মধ্যে হাশেমী দাদার (সৈয়দ জালালুদ্দীন হাশেমী / বঙ্গীয় আইনসভার ডেপুটি স্পীকার) পত্র নিয়ে একদিন হাজির হলেন কবি বেনজীর আহমদ। বিশেষ অনুরোধ, একটা ভালো রিভলবার এবং ডজন দুই গুলি দিতে হবে। কি এক জরুরী মিশনে তার দরকার। কবি আমাদের দলভুক্ত নন। কাজেই বিস্তারিত জানার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভালো অস্ত্র দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমাদের হাতে তখন প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য অস্ত্র ছিল। দলপতির নির্দেশ, প্রত্যেকটি অস্ত্র আপন সন্তানের মত সযত্নে রক্ষা করতে হবে। আগামী আন্ত:প্রাদেশিক অ্যাকশনে বহু অস্ত্রের প্রয়োজন। কিন্তু হাশেমী দাদার নির্দেশ, কিছু করতে হবে। অগত্যা তাকে একটি পুরাতন ধাঁচের পাঁচ চেম্বার রিভলবার দিয়ে বিদায় করতে হল।

কবি বেনজীর আহমদ কবি হলেও বেপরোয়া বিপ্লবী। ঢাকা জেলার ইলসদী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ভারতের স্বাধীনতা তার কাম্য। কিন্তু সে স্বাধীনতায় মুসলমানদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। তাই মুসলমানদের নিয়ে গণভিত্তিক বিপ্লবী দল গঠন করতে চেয়েছেন তিনি। মনে পড়ে, ১৯২৪ সালের গোড়ার দিকে তিনি খবরের কাগজে মোড়া এক বান্ডিল নোট নিয়ে সাংবাদিক ফজলুল হক সেলবর্ষীসহ আমাদের বাড়ি এলেন এবং টাকাটা বড় চাচা মৌলবী মুজীবুর রহমান সাহেবের হেফাযতে রাখতে চাইলেন। মুজীবুর রহমান সাহেবের সন্দেহ হয়। তিনি কিছুতেই টাকা রাখবেন না। বেনজীর সাহেবের অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর বড় চাচা আমাকে বললেন, তুমি টাকাটা নিয়ে অফিস ঘরে যে লোহার সিন্দুকটা আছে তার ভিতর রেখে দাও। যখন ফেরত চাইবে, দিয়ে দিও।

আমি টাকার বান্ডিল সিন্দুকে উঠাবার আগে জিজ্ঞাসা করলাম কত টাকা আছে?
বেনজীর সাহেব বললেন, পঁচাত্তর হাজার টাকা।

পরে শুনেছিলাম, নোয়াখালী জেলার হামছাদি ডাকাতির ফলে তারা এই টাকা পেয়েছিলেন। আরো শুনেছি, বেনজীর সাহেব গ্রেফতার হয়েছিলেন, কিন্তু চালান হওয়ার সময় হাতকড়াসহ স্টীমার থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে তিনি হাওয়া হয়ে যান। কয়েক বছর পর বেনজীর সাহেব ও সেলবর্ষী সাহেব এলেন টাকাটা ফিরিয়ে নিতে। বড় চাচার নির্দেশ মত আমি সিন্দুক খুলে পোঁটলাটা বের করতে গিয়ে দেখি পোঁটলার উপরের কাগজে জং ধরেছে এবং সিন্দুকের গায়ে কাগজ আঠার মত আটকে রয়েছে। সন্তর্পনে পোঁটলাটা বের করে বেনজীর সাহেবের হাতে দিয়ে বললাম, টাকা গুণে দেখুন।

বেনজীর সাহেব উত্তরে বললেন, টাকা গুণে মিলিয়ে নেওয়ার মত জায়গায় আমি গচ্ছিত রাখিনি। তিনি পোঁটলাটা নিয়ে চলে গেলেন। পরে জেনেছিলাম, তিনি সাহিত্য পত্রিকা বের করেছিলেন এই অর্থ দিয়ে। তার রাজনৈতিক তৎপরতা বেশী দিন চলেনি॥"

সূত্র : মোহাম্মদ মোদাব্বের / ইতিহাস কথা কয় ॥ [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন - অক্টোবর, ২০০৫ । পৃ: ১০৮-১০৯ ]

দুই. "... সময়টা সম্ভবত ১৯২৭ সালের শেষভাগ অথবা ১৯২৮ সালের প্রথম দিক হবে। আগেই যেমন বলেছি, আমি তখন নাসিরুদ্দীন সরদার লেনের বস্তিতে জায়গির থাকি। সদু খাঁ সাহেবের হোটেলটি তখন ঐ গলিতে। আমি প্রায় দিন সকালে ঐ হোটেলে প্রাত:ক্রিয়া এবং গোসল করতে আসতাম।

একদিন সকালে হোটেলে বেশ আলোড়নের সৃষ্টি হয়। আমিও কৌতুহলী হয়ে উঠি। দুটি আলাদা আলাদা দালান নিয়ে হোটেল। তার একটি ছিল গলি হতে ভেতরে প্রবেশের পর বহির্বাটির বড় উঠোনের ডান পাশে। অন্যটি বরাবর সোজা দক্ষিণ দিকে। বহির্বাটির ঐ এক কামরাবিশিষ্ট দালান হতে বাইরে বেরোলেন দাড়ি-গোঁফ কামানো এক অতি সুদর্শন এবং স্বাস্থবান যুবক। প্রায় ছয় ফুট লম্বা এই যুবকের কোমরটি ছিল হরিণের কোমরের মতো সরু এবং বুক সিংহের বুকের মতো চওড়া। বাঙালির জন্য অস্বাভাবিক রকমের উজ্জল ফর্সা গাত্রবর্ণ যুবকের। মাথায় তেলবর্জিত হালকা চুল ব্যাকব্রাশ করা। পরনের ফকফকে ফর্সা সরু পাড় মোটা সুতোর ধুতি, সাদা মোটা টুইলের শার্ট গায়ের রঙের সাথে চমৎকার মানিযেছে। তার পায়ে ছিল স্যান্ডেল। আমি তার দিকে বিস্ময়মাখা দৃষ্টি মেলে তাকিযে আছি। কে ইনি? মামলা-মোকদ্দমার লোক হতেই পারে না। এমন সময় কে যেন বললেন, ইনি বেনজীর আহমদ। আগেই উল্লেখ করেছি, ডেমরা গ্রামে থাকাকালেই আমি তার নাম শুনেছিলাম। তিনি ছিলেন দূর সম্পর্কে আমার মামা। মাদ্রাসার কমনরুমে মাসিক নওরোজ আসতো। নওরোজের সম্পাদক হিসেবে শান্তিপুরের কবি মোজাম্মেল হকের পুত্র আফজালুল হক সাহেবের নাম ছিল। মাত্র পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে পত্রিকাটি মুসলিম পাঠকসমাজে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতি সংখ্যায় নজরুল ইসলামের এক বা একাধিক রচনা প্রকাশিত হচ্ছিল। নওরোজেই পাঠ করেছিলাম বিদ্রোহী করিব্র নাটক সারাব্রীজ। এটি অন্য নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়। পরে জেনেছিলাম, নওরোজের প্র্তিষ্ঠাতা ছিলেন বেনজীর আহমদ, অর্থও যোগাচ্ছিলেন তিনি।

নোয়াখালির এক ডাকাতিতে সংযুক্ত থাকার অভিযোগে তিনি কলকাতায় গ্রেফতার হন। গ্রেফতার অবস্থায় হাতকড়া লাগিয়ে যখন তাকে গোয়ালন্দ হতে স্টিমারযোগে চাঁদপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তিনি গভীর রাতে প্রহরীদের অসতর্কতার মুহুর্তে চাঁদপুরের কাছাকাছি এক জায়গায় আশ্বিনের পদ্মায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাতকড়াবদ্ধ অবস্থায় সাঁতার কাটতে কাটতে এক সময়ে তিনি হাতকড়া খুলে ফেলতে সক্ষম হন। আরো অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর তিনি অর্ধমৃত অবস্থায় এক চরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সকালে গ্রামবাসীরা তাকে গ্রামে নিয়ে গিয়ে শুশ্রুষা করে ভালো করে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে পুনরায় গ্রেফতার করে। তাকে নোয়াখালি হাজতে প্রেরণ করা হয়। সরকার পক্ষ তার বিরুদ্ধে নোয়াখালি কোর্টে ডাকাতি ও নরহত্যার অভিযোগ এবং মুন্সিগঞ্জ কোর্টে আত্মহত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

যেদিন সদু খাঁর হোটেল প্রাঙ্গণে আমি তাকে প্রথম দেখি সেদিন তিনি নোয়াখালি ডাকাতি কেস হতে জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকা এসেছিলেন অথবা খালাস পেয়ে এসেছিলেন আজ আর সে-কথা মনে নেই। কিন্তু সেদিনের পরেও তিনি প্রায় ঢাকা আসতেন এবং সদু খাঁর হোটেলেই উঠতেন। মুন্সীগঞ্জের তৎকালীন এসডিও ছিলেন ফজলুল হক সাহেবের ভাগ্নে এবং জামাতা ওয়াজির আলী সাহেব। তার কোর্টেই ছিল বেনজীর সাহেবের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে আনীত মামলা। এ মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য তাকে ঢাকা হয়ে মুন্সীগঞ্জে যেতে হতো। বেনজীর সাহেবের পৈতৃক বাড়ি আড়াইহাজার থানার অন্তর্ভুক্ত ইলুমদি গ্রামে, সেখান হতে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার অন্য কোন সহজ পথ ছিল না।

এই আসা-যাওয়ার মধ্যেই বেনজীর সাহেবের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতার জন্ম। তিনি ছিলেন সেকালের মুসলিম তরুণ সমাজের লেজেন্ডারি হিরো - কল্পকথার রবিনহুড। তরুণ মনকে আকৃষ্ট করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। মুসলিম সমাজের একমাত্র রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদী বেনজীর আহমদ ছিলেন নাটকের রোমান্টিক নায়ক।

... তার ওপর পুলিশের সার্বক্ষণিক নজর ছিল। গ্রামের বাড়িতেও তার ওপর নজর রাখার জন্য ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের একজন লোক সর্বক্ষণের জন্য নিযুক্ত ছিল। এ অবস্থার মধ্যেও তিনি দমেন নি, তার কাজ তিনি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বেনজীর সাহেব সুযোগ পেলেই আমার সঙ্গে দেশের পরাধীনতা এবং মুসলিম সম্প্র্দায়ের পশ্চাৎপদতার বিষয় আলোচনা করতেন। তিনি বলতেন দেশ স্বাধীন করতে হবে, মুসলিম সমাজকে অজ্ঞানতা, কুসংস্কার এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে হবে। সর্ববিষয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমকক্ষ করতে হবে। এ লক্ষ্য কি উপায়ে পূরণ সম্ভব আমার মোহাবিষ্ট তরুণ মনে সে প্রশ্ন জাগেনি, জাগা স্বাভাবিক ছিল না। আমি তার রিক্রুট হয়ে পড়লাম।

... নানা বিপরীতধর্মী তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে অল্পবিস্তর পরিচিত হই বেনজীর সাহেবের ঢাকা অবস্থানকালেই। খুব সম্ভব ১৯২৮ অথবা ১৯২৯ সালের কথা - ঠিক মনে করতে পারছি না। কাছারির বিপরীত দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের বিরাট প্রাঙ্গণ। সেখানে বিশাল চন্দ্রাতপের নিচে নিখিল বঙ্গ অথবা নিখিল ভারত হিন্দুসভার সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলন উপলক্ষে শহরে জোর প্রচারকার্য চলছিল। পাড়ায় পাড়ায় হিন্দু তরুণ-তরুণীদের ব্যায়াম কুস্তি লাঠি খেলা ছোরা খেলার আখড়া অনেক আগেই স্থাপিত হয়েছিল। টিকাটুলি এলাকায় সুষুঙ্গের মহারাজাদের পাঁচিলঘেরা বিশাল দূর্বা চত্বর শোভিত বাড়ির মধ্যে ছোরা খেলা লাঠি খেলার মহড়া পথ চলতে চলতে উঁকি মেরে দেখতাম। হিন্দু মহাসভার সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহরে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দাঙ্গা লাগে লাগে অবস্থা।

... হিন্দু মহাসভার সম্মেলন উপলক্ষে মুদ্রিত প্রচারপত্র এবং ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের গেটে ঝুলন্ত ব্যানারে দেখলাম নিখিল ভারত হিন্দু মহাসভার নেতা ডক্টর মুঞ্জে এবং এ. সি. কেলকার ঢাকায় আসবেন এবং বক্তৃতা দেবেন। সম্মেলনে বিধর্মীর প্রবেশ নিষিদ্ধ। বেনজীর সাহেব সর্বক্ষণ ধুতিশার্ট পরতেন। তার লুঙ্গি ছিলই না। আমাকে বললেন, ধুতি শার্ট পরে চলুন, ওরা কি বলে শুনে আসি। আমি মাদ্রাসার ছাত্র; ধুতি ছিল না। ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে আমি প্রথম ধুতি ক্রয় করি। এক বন্ধুর কাছ থেকে ধুতি জোগাড় করলাম। বিকেলে দুজনে মিলে সভায় গেলাম। ডক্টর মুঞ্জে এবং কেলকার উভয়েই উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তৃতা করলেন। দুজনের মধ্যে ঠিক কে আজ মনে করতে পারছি না, কিন্তু দুজনেরই একজন বলেছিলেন যে, 'মুসলমানরা যদি এ দেশে থাকতে চায় তাহলে হিন্দুর সঙ্গে লীন হয়ে থাকতে হবে, নতুবা সাতশ বছর রাজত্ব এবং বসবাসের পর মুসলমানরা স্পেন হতে যেভাবে বিতাড়িত হয়েছিল আমরাও তাদেরকে সেভাবে আরব সাগর পার করে দেবো'।

... বলাবাহুল্য, হিন্দু মহাসভার সম্মেলনে ঐ উগ্র বক্তৃতা শুনে বেনজীর সাহেব এবং আমি খুবই ক্ষুব্ধ হই। আমরা সভা শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে পড়ি এবং সদরঘাটে করোনেশন পার্কে চলে যাই। সেখানে চীনাবাদাম খেয়ে রাত আটটা ন'টার দিকে ফিরে আসার সময় আন্ডাঘরের ময়দানের (বাহাদুর শাহ পার্ক) কাছে পৌঁছে দেখি আতঙ্কগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি ছুটোছুটি শুরু হয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে গিয়েছিল কিনা আজ আর তা মনে করতে পারছি না॥"

সূত্র : আবু জাফর শামসুদ্দীন / আত্মস্মৃতি ॥ [ সাহিত্য প্রকাশ - সেপ্টেম্বর - ২০০৫ । পৃ: ৯৩-৯৭ ]

তিন. "... শ্রীমান বে-নজীর আহমদকে আমি জানিতাম তাহাদেরি একজন রূপে - যাহারা মৃত্যুর মুঠায় জীবনের সঞ্চয় খুঁজিয়া ফেরে। এদিক দিয়া সে সত্যই মুসলিম তরুণদের মাঝে বে-নজীর; এরূপ আর একটি খুঁজিয়া পাওয়া যায় না।
হঠাৎ একদিন দেখিলাম, সে কবিতা লিখিতেছে, অগ্নিশিখা সন্ধ্যা-প্রদীপের স্নিগ্ধতায় ভরিয়া উঠিয়াছে। মৃণালে কন্টকের জ্বালা সহিয়া পদ্মফুল যেমন সূর্যের স্তব করে, এ যেন তেমনি। দুর্যোগের নিবিড় নিশীথে দু:সাহসিক যাত্রার মুখে আনন্দ-ভৈরবীর সুর - সত্য সত্যই বিস্ময়কর।
অন্ধ কারার সঙ্গীহীন অবকাশ সে ভরিয়া তুলিয়াছে এই কবিতা কয়টা দিয়া। মরুভূমিতে খর্জ্জুর বৃক্ষ যেমন করিয়া রস আহরন করে, নিষ্প্রাণ নিরানন্দ কারাগৃহে এ হয়ত তেমনি করিয়াই কাব্যরস সঞ্চয় করিয়াছে। অদ্ভুত জীবনীশক্তি যাহাদের, ইহা বোধহয় তাহাদেরই পক্ষে সম্ভব।
বে-নজীরের কাব্যে আকুতি, মুক্তির উদগ্র বাসনা, সৌন্দর্যের অসীম ক্ষুধা যে ভাষা, যে সংযম লইয়া ফুটিয়া উঠিয়াছে, তাহা যে কোন নবীন কবির পক্ষে বিস্ময়কর। ত্রুটি-বিচ্যুতি যে নাই এমন কথা বলি না, তবু কাঁটার উর্ধ্বে যে ফুল ফুটিয়া উঠিয়াছে, আমি শুধু তাহাকেই দেখিয়াছি। কাব্য-কাননে তাহার স্থান আছে। প্রথম জোয়ার যখন আসে, তখন সে কুলের বন্ধনকে স্বীকার করিতে চায় না। এই আবেগ যেদিন সংযত হইবে, ছন্দের দুই কুলকে স্বীকার করিয়া এ কবির কাব্যস্রোত সেদিন অপূর্ব সঙ্গীতে বাজিয়া উঠিবে। হয়তবা তাহার আর দেরিও নাই।

পাষাণ কারার বন্ধনমুক্ত যে বাণীর ধারা আপনার বেগে আপনি আসিয়া বাঙলার করতল ভূমিতে নামিয়া পড়িয়াছে, সে ধারা আপনার পথ আপনি সৃষ্টি করিয়া চলিবে। আমি শুধু সশ্রদ্ধ অঙ্গুলি সঙ্কেতে তাহাকে নির্দেশ করিয়া গেলাম॥" - কাজী নজরুল ইসলাম / কবির প্রথম কাব্যগ্র্ন্থ "বন্দীর বাঁশী"র ভূমিকায়॥

তথ্যসূত্র : বে-নজীর আহমদ / আতাউর রহমান ॥ [ বাংলা একাডেমী - মে, ১৯৯৪ । পৃ: ৮৯ ] [কৃতজ্ঞতা: কাইকাউস]

COMMENTS

BLOGGER
Name

আন্তর্জাতিক,2,ইতিহাস,4,ইসলাম ধর্ম,1,ইসলামের ইতিহাস,4,কোরআন ও বিজ্ঞান,2,নবী ও রাসুল,1,নাস্তিক্যবাদ,2,পাকিস্তান অধ্যায়,3,প্রতিবেশী ভূ-রাজনীতি,1,বাংলা সাহিত্য,1,বাংলাদেশ অধ্যায়,2,বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব,1,ভাষা আন্দোলন,6,ভাষা ও সংস্কৃতি,1,মতামত,3,মুক্তিযুদ্ধ,5,মুসলিম বিজ্ঞানী,1,মুসলিম শাসনকাল,5,রাজনীতি,9,রাজনীতিবিদ,8,রাষ্ট্র ও প্রসাশন,2,লেখক ও সাহিত্যিক,1,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,2,শিক্ষা ব্যবস্থা,4,সাম্প্রদায়িকতা,1,সাহাবীদের জীবনী,2,সাহিত্য ও সংস্কৃতি,3,
ltr
item
iTech: বে-পরোয়া বে-নজীর : এক বিপ্লবী কবির উপাখ্যান
বে-পরোয়া বে-নজীর : এক বিপ্লবী কবির উপাখ্যান
বেপরোয়া বিপ্লবী কবি বেনজীর আহমদ। হিন্দু মহাসভার সম্মেলন উপলক্ষে মুদ্রিত প্রচারপত্র।
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhNN2IU6GA9WJP4mhxZvwvJAS6la86spEOkP9XZqRP9yEuHmomo7_cN5pi445SF6lniNvGS-UHN2O9VCNdIlgLJQO8Dae9js2064ZTcMstTHrijxzuNwBxC3cbwu57z-SQ_AKME-4YvnUoY/s200/oo.jpg
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhNN2IU6GA9WJP4mhxZvwvJAS6la86spEOkP9XZqRP9yEuHmomo7_cN5pi445SF6lniNvGS-UHN2O9VCNdIlgLJQO8Dae9js2064ZTcMstTHrijxzuNwBxC3cbwu57z-SQ_AKME-4YvnUoY/s72-c/oo.jpg
iTech
https://qtechmedia.blogspot.com/2017/04/blog-post_75.html
https://qtechmedia.blogspot.com/
https://qtechmedia.blogspot.com/
https://qtechmedia.blogspot.com/2017/04/blog-post_75.html
true
5233664077611017960
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content